স্পট মার্কেটে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে রুপার বাজারদর

ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের তালিকায় রুপা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।

ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের তালিকায় রুপা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। ফলে ধাতুটির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চাহিদা বাড়ছে রুপার। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে বেশ কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ধাতুটির বাজারদর। স্পট মার্কেটে তা টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ সময় ধাতুটির দরবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) শক্তিশালী বিনিয়োগপ্রবাহ। খবর মাইনিং ডটকম।

স্পট মার্কেটে শুক্রবার রুপার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ৫৯ ডলার ৩৩ সেন্টে। এছাড়া এ সময় সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে রুপার দাম বেড়েছিল ১৩ শতাংশ।

অনলাইন ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পেপার স্টোন গ্রুপ লিমিটিডের রিসার্চ স্ট্র্যাটেজিস্ট দিলিন উ বলেন, ‘ইটিএফে রুপার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এতে ধাতুটির দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। ফলে বাজারে স্বল্পমেয়াদে শর্ট স্কুইজ তৈরি হতে পারে।’

প্রসঙ্গত, পণ্যবাজারে হাতে থাকা মজুদের অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির পর সে ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্যের ক্রয় বাড়িয়ে দিলে শর্ট স্কুইজ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম কমবে এমন ধারণা থেকে ব্যবসায়ীরা হাতে না থাকলেও তা আগেই বিক্রি করে দেন। পরে দাম কমলে তা স্বল্পমূল্যে কিনে ক্রেতাকে সরবরাহের মাধ্যমে মুনাফা করার প্রত্যাশা থাকে তাদের। এটিকে বলা হয় শর্ট সেলিং। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে হলে অর্থাৎ দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে তা দ্রুত কিনে এ ঘাটতি পূরণের প্রবণতা দেখা দেয় তাদের মধ্যে। এতে বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্য বা স্টকের দামের ঊর্ধ্বমুখিতা আরো জোরালো হয়ে ওঠে। বিষয়টিকে স্কুইজিং নামে অভিহিত করে থাকেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রুপার দাম আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে অন্যান্য বাজারে এখন সরবরাহ সংকট দেখা দিচ্ছে। চীনের মজুদ এক দশকের সর্বনিম্নে নেমেছে।

সিটিগ্রুপের বিশ্লেষক ম্যাক্স লেইটন বলেন, ‘‌শক্তিশালী বিনিয়োগ চাহিদার কারণে আগামী তিন মাসে রুপার দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৬২ ডলারে।’

রুপার দামের সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর প্রত্যাশা।

আরও